লিটনকে ছাড়া সিরিজে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ তামিম বাহিনীর

ওয়ানডে সিরিজে এ মুহূর্তে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। শুক্রবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে প্রথম ম্যাচ ৫ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-০‘তে এগিয়ে রেগিস চাকাভার দল। এখন এই সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনতে হলে তামিম ইকবাল বাহিনীকে ৭ আগস্ট, রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডে জিততেই হবে। তাতেই সিরিজ ১-১ হবে। তখন ১০ আগস্ট বুধবারের শেষ ম্যাচটি হবে সিরিজ নির্ধারনী লড়াইয়ে।

সুতরাং, রোববার হলো টাইগারদের সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। এ লড়াইয়ে পারবে কী তামিমের দল?

এমনিতে গত ৯ বছরে একটি-দুটি নয়, পাঁচ পাঁচটি সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের কাছে সর্বশেষ সিরিজ পরাজয় ঘটেছে ২০১৩ সালের মে মাসে। সেবার ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে ১২১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেও পরের দুটিতে যথাক্রমে ৬ ও ৭ উইকেটে জয় করে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

এখন দেখার জিম্বাবুয়ে এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়, নাকি ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে যেটা করেছিল বাংলাদেশ এবার তাই করে দেখায়, মানে পিছিয়ে পরের ২ ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতে নেয়। সে কাজটি নানা কারনেই এখন কঠিন হয়ে গেছে।

দলে ইনজুরি বাসা বেঁধেছে। ইনজুরির প্রবল হানায় এখন অনেকটাই দুর্বল তামিম বাহিনী। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আঙ্গুল ফ্র্যাকচার হয়ে ছিটকে পড়েছেন উইকেটকিপার কাম ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান।

শুক্রবার প্রথম ওয়ানডেতে ইনজুরির শিকার অপর দুই অপরিহার্য্য সদস্য লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম। আগামীকাল রোববার দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে হবে ওই দুই ক্রিকেটারকে ছাড়া। খুব স্বাভাবিকভাবেই দলের শক্তি কমে গেছে।

বিশেষ করে লিটন দাসের অনুপস্থিতি মানেই ব্যাটিং শক্তির বড় অংশ কমে যাওয়া। বাঁ-হাতি পেসার শরিফুলের না থাকাও পেস বোলিংকে করবে কমজোরি। লিটন দাস এখন ব্যাটিংয়ের পরীক্ষিত যোদ্ধা। আর শরিফুলের বোলিংটাও দলের বড় সম্পদ। এমন দুজন নির্ভরযোগ্য পারফরমারকে ছাড়া সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে মাঠে নামা সহজ কাজ নয়। রীতিমত কঠিন চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারবে কি টাইগাররা?

লিটন দাস ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। সব ফরম্যাটের প্রায় খেলায় তার ব্যাট কথা বলছে। নিয়মিত রান করছেন। শুক্রবারের ম্যাচেও লিটনই ছিলেন টপ স্কোরার। ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা এবং নিয়মিত রান করা লিটনের অভাব পূরণ করবেন কে? কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

শরিফুলের অভাবটা হয়ত মোস্তাফিজ, তাসকিন কিংবা হাসান মাহমুদদের দিয়ে পূরণ করা যাবে; কিন্তু লিটনের জায়গা নেবার আসলে এখন কেউ নেই। তাই আগামীকালকের ম্যাচে লিটনকে খুব মিস করবে দল।

এখন তার জায়গায় হয়তো নাজমুল হোসেন শান্ত অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তিনি কি পারবেন লিটনের মত করে দলকে সার্ভিস দিতে?

প্রথম ওয়ানডেতে লিটনের সঙ্গে অধিনায়ক তামিম, ওয়ানডাউন এনামুল হক বিজয় আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম পাল্লা দিয়ে রান করেছেন। ফিফটি হাঁকিয়েছেন। ওই ৪ জনের অর্ধশতকে ভর করেই ৩০৩ রানের বড়সড় স্কোর গড়ে ওঠে। কিন্তু বোলারদের আলগা ও ধারহীন বোলিং আর ফিল্ডারদের ক্যাচ ধরায় অস্বাভাবিক ব্যর্থতায় অতবড় পুঁজি নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।

সিকান্দার রাজা আর ইনোসেন্ট কায়াকে আটকানো সম্ভব হয়নি। একজন বোলারও জিম্বাবুইয়ান ব্যাটারদের ব্যাটের উত্তাল গতি কমানোর পাশাপাশি তাদের মারমুখি ব্যাটিং থেকে বিরত রাখতে পারেননি।

কি পেসার, কি স্পিনার- সবাই মার খেয়েছেন। ঠান্ডা মাথায় লাইন লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করতে পারেননি একজনও। বলে বাড়তি কারুকাজ বহুদুরে, কারো বলে এতটুকু বৈচিত্রও ছিল না। তাই জিম্বাবুইয়ানদের আটকে রাখা সম্ভব হয়নি।

এখন রোববার কি হয়, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.